ইতালি টুরিস্ট ভিসা ২০২২ আবেদন, খরচ, সহ বিস্তারিত

ইতালি টুরিস্ট ভিসা
ইতালি টুরিস্ট ভিসা

ইতালি টুরিস্ট ভিসা ২০২২ নিয়ে আপনাদেরকে আমরা বিস্তারিতভাবে জানাবো এখানে জানতে পারবেন ইতালির ভিসা কিভাবে আবেদন করবেন, ইতালি টুরিস্ট ভিসা আবেদন করার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে, এবং ইতালি টুরিস্ট ভিসার জন্য কত টাকা খরচ হবে এবং কতদিন সেখানে অবস্থান করবেন এই নিয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইতালিতে টুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে অথবা ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মাধ্যমে অনেকেই সেখানে পাড়ি জমিয়ে থাকে। আবার অনেকেই আছে যারা শুধুমাত্র ভ্রমণ করার উদ্দেশ্যে অথবা বিভিন্ন বিজনেস প্ল্যান করার উদ্দেশ্যে ইতালি টুরিস্ট ভিসা নিয়ে সেখানে পাড়ি জমাচ্ছে।

তাই আজকে আমরা এই কনটেন্ট এর মাধ্যমে তুলে ধরব কিভাবে আপনারা ইতালি টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করবেন এবং আবেদন করতে হলে কি কি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তা আমরা এই কনটেন্ট এর মাধ্যমে তুলে ধরব তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক ইতালি টুরিস্ট ভিসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য।

ইতালিতে টুরিস্ট ভিসায় কেন যাবেন

আপনি যদি অল্প সময়ের জন্য ইতালিতে যেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে যেতে হবে এক্ষেত্রে কম টাকার মধ্যেই আপনি ইতালি টুরিস্ট ভিসা নিয়ে যেতে পারবেন। তাছাড়া যদি আপনি অন্যান্য ভিসা নিয়ে যেতে চান তাহলে খরচ বেশি পড়বে এবং যাওয়ার প্রচেষ্টা একটু কঠিন হবে তাই সর্বপ্রথম অবস্থায় আপনাকে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ইতালিতে প্রবেশ করে সবকিছু ঠিকঠাক করে পরবর্তীতে আপনি অন্যান্য ভিসা নিয়ে যেতে পারবেন।

অনেকেই আছে যারা বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে যে থাকে তবে এ ক্ষেত্রে সরাসরি ঐ সমস্ত কাজের ভিসা পাই না যেমন ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য অনেকেই যেতে চাই সে ক্ষেত্রে সরাসরি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাই না তারা সাধারণত ইতালি টুরিস্ট ভিসা নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জবে আবেদন করে এবং পরবর্তীতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা তৈরি করে ফেলে।

আরো পড়ুনঃ  ফিজি কাজের ভিসা ২০২৩-ফিজি কাজের বেতন

তাইলে অনেকেই এই ভাবে আপনারা বিভিন্ন কোম্পানিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দেখে জবের জন্য আবেদন করতে পারেন টুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে। তাছাড়া অন্যান্য ব্যক্তি যারা আছে তারা সাধারণত বিজনেস প্ল্যান তৈরি করার জন্য ইতালিতে টুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে সেখানে যেএ থাকে।

ইতালি টুরিস্ট ভিসা ২০২২

ইতালি টুরিস্ট ভিসা করার জন্য ইতালি দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন ফর্ম জমা দিতে হবে। অনলাইন থেকে একটি আবেদন ফরম ডাউনলোড করার পরে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গুলো এবং যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পরেই ইতালি দূতাবাস এ জমা দিতে হবে পরবর্তী 15 দিনের মধ্যে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলেই টুরিস্ট ভিসা হাতে পেয়ে যাবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ইতালি টুরিস্ট ভিসা তৈরি করা যাচ্ছে তবে এর আগে দিল্লি থেকে সরাসরি ইতালি ভিসার জন্য আবেদন করতে হতো কিন্তু করণা মহামারীর পর থেকে ঢাকা থেকেই এখন ইতালির ভিসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাই চাইলে যে কেউ সরাসরি ঢাকা থেকেই ইতালি টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ  রোমানিয়া থেকে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় ( খরচ কত )

তবে কিছু দিন পর্যন্ত এখানে হয়তোবা অবস্থান করবে পরবর্তীতে আবার পুনরায় দিল্লি থেকেই কিন্তু ইতালির ভিসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে তাই যারা এখন ইতালি টুরিস্ট ভিসা করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এবার একটি সুবর্ণ সুযোগ। পরবর্তীতে দিল্লিতে চলে গেলে খরচ একটু বেশি পড়বে এবং প্রসেস একটু দেরিতে হতে পারে।

ইতালি টুরিস্ট ভিসার দাম কত

ইতালি টুরিস্ট ভিসার দাম পড়বে ৯,৫০০ টাকা। তাছাড়া বেসরকারিভাবে বা বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে যদি যেতে চান তাহলে খরচ আরেকটু বেশি পড়বে। বিভিন্ন এজেন্সির ক্ষেত্রে অন্যান্য খরচ বাবদ বিমান ভাড়া এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কারণে খরচ দ্বিগুণ হারে বেড়ে যাবে।

শুধুমাত্র ভিসা খরচ এবং অন্যান্য এই খরচ ধরা হয়েছে তবে অবশ্যই আপনার জেনে রাখা উচিত যে বেসরকারি মাধ্যমে কিন্তু আপনাদের খরচসহ এবং সুযোগ সুবিধা বেশি পাওয়া যাবে এবং বেশি টাকা খরচ করতে হবে। তাই অবশ্যই বিভিন্ন এজেন্সির দেখার আগে অনলাইন থেকে আপনারা যাচাই-বাছাই করে নিয়ে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন তবে অবশ্যই সরকার নিবন্ধিত এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন।

আরো পড়ুনঃ  সৌদি আরবে কোন কাজের চাহিদা বেশি ( নতুন আপডেট )

ইতালি টুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া

ইতালি টুরিস্ট ভিসা আবেদনের জন্য সরাসরি অনলাইন থেকে আবেদন করতে পারবেন অথবা ইতালি দূতাবাসের মাধ্যমেও ইতালি টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ইতালি টুরিস্ট ভিসা অনলাইনে  আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো স্ক্যান করে আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই দূতাবাসের মাধ্যমে জমা দেওয়ার পূর্বে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো সব কিছু ঠিকঠাক রেখে আবেদন ফরমের সাথে জমা দিতে হবে সরাসরি দিল্লি দূতাবাসের মাধ্যমে দিতে পারবেন। অথবা বাংলাদেশ বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন পত্র জমা দিতে পারবেন। ইতালি টুরিস্ট ভিসা আবেদন করতে ক্লিক করুন

ইতালি টুরিস্ট ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ইতালি টুরিস্ট ভিসা তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র দূতাবাসের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। এই সমস্ত কাগজপত্র এর মধ্যে কোন ধরনের ভুল ত্রুটি থাকা যাবে না তা না হলে আপনার ইতালি টুরিস্ট ভিসার আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। সেই সাথে যে সমস্ত কাগজপত্র গুলো সবগুলো সত্যায়িত করে নিতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • ৬ মাস মেয়াদি পাসপোর্ট
  • ৪ পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • ৬ ব্যাংক স্টেটমেন্ট কপি
  • চেয়ারম্যান কর্তৃক সত্যায়িত সনদপত্র
  • পূর্বে কোথায় ট্র্যাভেল করেছেন তার প্রমাণ
  • পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে তার কপি
  • দম্পতির ম্যারেজ সার্টিফিকেট
  • সন্তানদের ক্ষেত্রে নিবন্ধন কপি
  • ট্রেড লাইসেন্স
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি
  • বাবা-মায়ের স্বাক্ষর পাসপোর্ট এর ফটোকপি

উপরোক্ত কাগজপত্রের মধ্যে কোন ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ যাতে না থাকে এবং কোনো ধরনের ভুল ত্রুটি থাকা যাবে না যদি এই সমস্ত কোন ভুল ত্রুটি পাওয়া যায় তাহলে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো অবশ্যই সত্যায়িত করে নিতে হবে দূতাবাসের মাধ্যমে।

ইতালি টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ কতদিন

ইতালি টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ হল ৩০ দিন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত। ইতালি টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ এখন পর্যন্ত ৩০ দিন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত চালু আছে। তবে কোনো কারণবশত যদি আপনার কোন জটিলতা তৈরি হয়ে থাকে এবং ৯০ দিন পরেও যদি সময় লাগে তাহলে ইতালিতে অবস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে আপনাকে যোগাযোগ করে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ  বাহরাইন ভিজিট ভিসা ২০২৩-বাহরাইন ভিজিট ভিসা খরচ

তবে কি কারনে আপনি ভিসার মেয়াদ বাড়াবেন এবং কতদিন পর্যন্ত পরবর্তীতে ইতালিতে থাকতে চাচ্ছেন সেই বিষয়টি তাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে এবং তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আপনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিবে।

ইতালি টুরিস্ট ভিসা

ইতালি টুরিস্ট ভিসায় কি কি করতে পারবেন

ইতালি টুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে ৩০ দিন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত সময় পাবেন এর মধ্যে আপনি বিভিন্ন জব এর জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং ওই আবেদনে যদি আপনি এপ্রোভাল পেয়ে যান তাহলে পরবর্তীতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করে নিতে পারবেন। তাছাড়া আপনি বিভিন্ন ধরনের বিজনেস প্লান তৈরি করতে পারবেন এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে পারবেন তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গার লিস্ট আমরা নিচে তুলে ধরলাম।

ইতালি টুরিস্ট ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম

প্রথম অবস্থায় ইতালি টুরিস্ট ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম টি প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। সম্পন্ন হলে অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো স্ক্যান করে  সাবমিট করতে হবে। আবেদন করার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন, আবেদন করুন

ইতালি টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ

ইতালি টুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে অনেকেই এ কাজ করার চিন্তা-ভাবনা করে থাকেন তবে এক্ষেত্রে কিন্তু আপনি সেখানে গিয়ে কাজ করার অনুমতি পাবেন না। ইতালিতে কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে যেতে হবে তবে অনেকেই আছে যারা তিন মাসের জন্য যাওয়ার পরেও ইতালিতে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করে পরবর্তীতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই চলে আসা লাগে।

আরো পড়ুনঃ  বাংলাদেশ টু কাতার বিমান ভাড়া কত

আবারো সমস্ত কোম্পানির মাধ্যমে তারা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সংগ্রহ করে ফেলে এবং তা থেকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা রূপান্তরিত হয়ে যায়। এইভাবে অনেকেই ইতালির ভিসা নিয়ে গিয়ে সেখানে বিভিন্ন ধরনের কাজ খুঁজে নিয়ে অনেকেই সেখানে অবস্থান করছে।

ইতালি টুরিস্ট ভিসা নিয়ে সর্তকতা

ইতালির ভিসা হাতে পাওয়ার পরে অবশ্যই অনলাইন থেকে তা যাচাই-বাছাই করে নিবেন। সম্পূর্ণভাবে দালালের মাধ্যমে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন এবং অবৈধ পথে ইতালিতে প্রবেশ করার হলেও চেষ্টা করবেন না। বর্তমানে অবৈধ পথে যারা যাচ্ছে তাদেরকে পুলিশের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছে তাই অবশ্যই অবৈধ পথ ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *