কাতার টুরিস্ট ভিসা ২০২৩ – কাতার স্টুডেন্ট ভিসার দাম কত

কাতার টুরিস্ট ভিসা
কাতার টুরিস্ট ভিসা

বিশ্বের সবচেয়ে টুরিস্ট ভিসায় যে দেশগুলোতে মানুষ ভ্রমণ করে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হলো কাতার। আজকে আমরা আমাদের এই কন্টেন্টের মাধ্যমে কাতার টুরিস্ট ভিসা সম্পর্কে আপডেট তথ্যগুলো দেওয়ার চেষ্টা করব। শুধু কাতার টুরিস্ট ভিসা নয় আজকে আমাদের এই কন্টেন্টের মাধ্যমে আপনারা স্টুডেন্ট ভিসা সম্পর্কেও অনেক তথ্য জানতে পারবেন। স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে কি সেখানে কাজ করা যায় এবং স্টুডেন্ট ভিসার পেতে কতদিন সময় লাগে এ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছে আমাদের এই কনটেন্টের মধ্যে।

কাতার টুরিস্ট ভিসা ২০২৩

বাংলাদেশী টুরিস্টদের জন্য কাতার সরকার ২০২৩ সালে বিশেষ এক ধরনের সুবিধা দিতে যাচ্ছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে। টুরিস্টদের জন্য ভিসা আরও সহজ করে দিচ্ছে কাতার সরকার। খুবই শীঘ্রই কাতার টুরিস্ট ভিসা নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি পেয়ে যাবেন এজেন্সি থেকে। এরপর থেকে আর টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত ঝামেলা করার প্রয়োজন হবে না।

করোনা মহামারীর পর থেকে কাতার টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে কাতার টুরিস্ট ভিসাখুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে অনেক শর্তসাপেক্ষে এবং জটিলতার মধ্য দিয়ে মানুষ কাতার টুরিস্ট ভিসা সংগ্রহ করত। ২০২৩ সালে যা অনেকটাই আপডেট হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের জন্য একটি সুখবর দিতে যাচ্ছে দূতাবাস।

কাতার টুরিস্ট ভিসা ফর বাংলাদেশি

বাংলাদেশীদের জন্য কাতার টুরিস্ট ভিসা পাওয়া অনেকটা সহজ করে দিয়েছে কাতার সরকার। শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের প্রতিটা মুসলিম দেশের জন্যই কাতার টুরিস্ট ভিসা পাওয়া একেবারে সহজ। কাতারে অবস্থিত মুসলিম ইতিহাসের বিষয় সম্পর্কে যেন পুরো পৃথিবীর মানুষ জানতে পারে সেজন্য এই কাতার সরকার এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আরো পড়ুনঃ  কুয়েত কোম্পানি ভিসা ২০২৩-কুয়েত ন্যাশনাল কোম্পানি

একজন বাংলাদেশীকে কাতার টুরিস্ট ভিসায় যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত কোন রিকোয়ারমেন্ট জমা দেওয়া লাগে না। কিন্তু আপনি যদি মধ্যপাথ্যের দেশগুলোতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে বেশ কিছু অতিরিক্ত রিক্রুটমেন্ট জমা দিতে হয়। তাই বলা যায় বাংলাদেশিদের জন্য কাতার টুরিস্ট ভিসা পাওয়া অনেকটাই সহজে ব্যাপার।

কাতার ভিজিট ভিসা দাম কত

কাতার ভিজিট ভিসার দাম মূলত চার থেকে ছয় লক্ষ টাকা। ৪ থেকে ৬ লক্ষ টাকার মধ্যে কাতার ভিজিট ভিসা পাওয়া সম্ভব। তবে সরকারি বোয়েসেল নিবন্ধনকৃতক যে এজেন্সি গুলো রয়েছে সেখান থেকে কাতার ভিজিট ভিসা সংগ্রহ করলে খরচ কিছুটা কম হবে। তবে ভিজিট ভিসার জন্য বেশ কিছু রিকোয়ারমেন্ট থাকে। যেগুলো আপনি সঠিকভাবে এজেন্সিতে জমা না দিতে পারলে আপনাকে কখনোই কাতার ভিজিট ভিসা প্রদান করা হবে না।

কাতার টুরিস্ট ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

কাতার টুরিস্ট ভিসায় যাবার জন্য স্পেশাল কোন ডকুমেন্ট এর প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র এজেন্সিকে যদি আপনি বোঝাতে পারেন যে আপনি একজন সত্যিকারের  টুরিস্ট তাহলে অতিরিক্ত কোন ডকুমেন্টস প্রয়োজন হবে না। তারপরও সাধারণভাবে যে ডকুমেন্টস গুলো বেশি প্রয়োজন সেগুলো আমরা নিচে তুলে ধরছি:

  1. আবেদন করার জন্য ফর্মটি অবশ্যই নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে
  2. এজেন্সি থেকে যাওয়ার রিক্যাটমেন্ট গুলো অবশ্যই ইংরেজিতে হতে হবে।
  3. একটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকতে হবে এবং কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের রেকর্ড দেখাতে হবে।
  4.  আপনার সকল সাধারণ ডকুমেন্টগুলোর সত্যায়িত করার প্রয়োজন হবে
  5. একটি বৈধ পাসপোর্ট সহ ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকা বাধ্যতামূলক।
আরো পড়ুনঃ  মরিশাস গার্মেন্টস ভিসা 2023 | মরিশাস গার্মেন্টস বেতন কত

কাতার টুরিস্ট ভিসায় কতদিন থাকতে পারবেন

কাতারের টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে একজন নাগরিক সর্বোচ্চ তিন মাস থাকতে পারে। তবে আপনি তিন মাসের আগেও কাতার থেকে চলে আসতে পারবেন। অনেকে সাপ্তাহিক ভিসা নিয়ে থাকে যারা এক সপ্তাহ থেকে চলে আসেন। তবে আপনি যদি আপনার ভিসার মেয়াদের থেকেও অতিরিক্ত সময় কাতারে থাকেন তবে আপনাকে জরিমানা করা হবে। এবং সেখান থেকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে আপনি এ ধরনের অন্যায় করলে সেখান থেকে কোন ধরনের মালামাল নিয়ে আসতে পারবেন না।

কাতার টুরিস্ট ভিসায় কি কি করতে পারবেন

কাতারের টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে আপনি শুধুমাত্র ভ্রমণ করতে পারবেন। অনেকে মনে করে টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে ওয়ার্ক পারমিট বিষয়ে কাজ শুরু করবেন। এটি একেবারেই মানুষের ভুল ধারণা। ওয়ার পারমিট ভিসায় কাজ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। টুরিস্ট ভিসায় কাতারে গিয়ে আপনি কখনোই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করতে পারবেন না।

আরো পড়ুনঃ  দুবাই লেবার ভিসা কিভাবে করবেন-দুবাই লেবার ভিসা খরচ

কাতার টুরিস্ট ভিসাতে গিয়ে সেখানকার সমস্ত পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে আপনি যত দিনের ভিসা নিয়ে সেখানে গিয়েছেন তার অতিরিক্ত সময় সেখানে কাটানো যাবে না। এছাড়াও টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণে কিছু জিনিস কেনাকাটা করতে পারবেন। তবে অবশ্যই সেটা এদেশের বৈধতা থাকতে হবে। অবৈধ কোন জিনিস যদি আপনি সেখান থেকে কিনে নিয়ে আসেন তাহলে আপনাকে আইনের আওতায় নেয়া হবে এবং জরিমানা করা হবে। তাই কোন ধরনের অবৈধ জিনিস নিয়ে দেশে না ঢুকায় সব থেকে বুদ্ধিমানের কাজ।

কাতার স্টুডেন্ট ভিসা
                                       কাতার স্টুডেন্ট ভিসা

কাতার স্টুডেন্ট ভিসার দাম কত

সাধারণভাবে কাতার স্টুডেন্ট ভিসা পেতে চার থেকে সাত লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। যদিও ভিসার দাম এত টাকা নয়, ভিসার পুরো প্রক্রিয়া করতে এরকম টাকা খরচ হতে পারে। তবে শুধু ভিসা পেতে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা লাগতে পারে।

আরো পড়ুনঃ  আমেরিকা ডিবি লটারি ২০২৪| আমেরিকা ডিবি লটারি আবেদন ফরম

অনেকেই ভাবছেন চার থেকে সাত লক্ষ টাকা কিভাবে লাগে কাতার স্টুডেন্ট ভিসার জন্য। অনেকেই ভেবে থাকে একজনের অল্প টাকা অন্যজনের বেশি টাকা কিভাবে লাগে? আসলে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হতে চান সেটার উপর। স্বাভাবিকভাবে দেখেন আমাদের দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক ধরনের টাকা খরচ হয় অপরদিকে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি গুলোতে টাকার পরিমাণ ভিন্ন হয়। এরকম ভাবে কাতারেও ভিসার জন্য আলাদা আলাদা খরচ হয়। তবে চার থেকে সাত লক্ষ টাকার মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া সম্ভব।

কাতার স্টুডেন্ট ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে চান ভর্তি অ্যাপ্লিকেশন।
  • ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম, অবশ্যই নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।
  • আই এল টি এস কোর্স সর্বনিম্ন ৫.৫ থাকতে হবে
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট করিয়ে রাখতে হবে।
  • আপনি বর্তমানে যেই কর্মস্থলে কর্মরত আছেন সেখান থেকে একটি চিঠি সংগ্রহ করতে হবে।
  • একটি বৈধ ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।
  • কোভিড 19 ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে না
  • জন্ম সনদ, পিতা-মাতার এনআইডি কার্ড, ছবি, এরকম জিনিস গুলো সত্যায়িত করতে হবে।

উপরোক্ত কাগজপত্র ছাড়াও আরো সাধারণ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। তবে উপরে কাগজগুলো অবশ্যই প্রয়োজন হবে। এগুলোর পাশাপাশি যে কাগজপত্র গুলো সব থেকে বেশি প্রয়োজন সেগুলো আপনারা ভিসা এজেন্সি থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ  তিউনিসিয়া কাজের ভিসা (নতুন আপডেট)

কাতার স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া

কাতার স্টুডেন্ট ভিসা পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্রথমে একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার সেকশন গুলো সম্পর্কে জানতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয় আপনার পছন্দের সেকশনগুলো রয়েছে আপনি সেখানেই ভর্তি ফরম উঠাবেন।

ভর্তি ফরম উঠানোর পরে আপনাকে একটি চিঠি পাঠানো হবে। অনেক সময় এটি মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়ে থাকে। সে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি এর সর্বশেষ আপডেট আপনাকে সেই চিঠিতে দেওয়া হবে। এর পরে আপনি আপনার ভিসার জন্য যেকোনো এজেন্সি তে আবেদন করতে পারবেন।

আপনি যদি সাধারন স্টুডেন্ট হয়ে ইচ্ছা পোষণ করেন কাতারে গিয়ে লেখাপড়া করবেন তাহলে ধারণাটি আপনার ভুল ছিল। সাধারণ স্টুডেন্ট হয়ে কখনো আপনি কাতারে গিয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাবেন না। কাতারে লেখাপড়ার সুযোগ পেতে হলে অবশ্যই দেশ থেকে আপনাকে কিছু উচ্চতর ডিগ্রি ধারণ করতে হবে।

কাতার স্টুডেন্ট ভিসা কিভাবে পাবেন

কাতার স্টুডেন্ট ভিসা পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই যে কোন একটি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের সাজেশন থাকবে আপনি অবশ্যই বাংলাদেশ বোয়েসেল স্বীকৃত যে এজেন্সি গুলো রয়েছে সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কারণ কাতার স্টুডেন্ট ভিসায় যদি আপনি কাতার যেতে চান তাহলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এজেন্সি পাওয়া একটু কষ্টকর ব্যাপার।

আরো পড়ুনঃ  অস্ট্রেলিয়া টুরিস্ট ভিসা-অস্ট্রেলিয়া ভিসা প্রসেসিং

স্টুডেন্ট ভিসা কিভাবে পাবেন প্রশ্নটি একটু অন্যরকম? অনেক শ্রমিক মানুষও এভাবে প্রশ্ন করে যে স্টুডেন্ট ভিসা কিভাবে পাব স্যার? অনেকে মনে করে স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়েও ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মত কাজ করা যায়। আসলে এটি সাধারণ মানুষদের একেবারেই ভুল ধারণা। কারণ আপনি কখনোই কাতারে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় কাজ করতে পারবেন না।

কাতার স্টুডেন্ট ভিসায় কতদিন থাকতে পারবেন

কাতার স্টুডেন্ট ভিসায় আপনি কাতারে গিয়ে যতদিন পর্যন্ত না আপনার লেখাপড়া সম্পন্ন হচ্ছে আপনি ততদিন পর্যন্ত কাতারে অবস্থান করতে পারবেন। যদিও এর মধ্যে আপনি যদি মনে করেন নির্দেশে ফিরে আসবেন তাহলে সেটা আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে। তবে আপনি যতদিন পর্যন্ত সেখানে লেখাপড়া শেষ না হয়ে যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আপনি কাতারে স্টুডেন্ট ভিসা থাকতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ  মালয়েশিয়া প্রিমিয়াম ভিসা কিভাবে পাবেন

তবে অনেকেই মনে করে কাতার স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে আমি কি কাতার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে কাজ করতে পারবো? এরকম চিন্তা ভাবনা মনে না নিয়ে আসে ভালো। কারণ আপনি যেখানে লেখাপড়া করতে যাচ্ছেন আপনার মূল টার্গেট রাখতে হবে লেখাপড়া। কাতার সরকার স্টুডেন্টদের জন্য সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি ঘন্টা কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে। এর বেশি যদি আপনি করতে থাকেন তাহলে আপনার কাজ বাতিল করে দেয়া হবে এবং জরিমানা করা হবে। তাই কাতার স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে ওয়ার্ক পারমিট বিষয়ে কাজ না করাই সবথেকে ভালো।

কাতার ভিসা সেন্টার বাংলাদেশ | কাতার ভিসা সার্ভিস

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *