দুবাই রেসিডেন্স ভিসা-দুবাই রেসিডেন্স ভিসা খরচ

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা
দুবাই রেসিডেন্স ভিসা

আজকে আমরা কথা বলবো দুবাই রেসিডেন্স ভিসা কি এবং দুবাই রেসিডেন্স ভিসা খরচ কত টাকা পড়ে থাকে এবং কিভাবে আপনারা দুবাই রেসিডেন্স ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন এই নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আমরা এ আর্টিকেল এর মধ্যে তুলে ধরেছি আশাকরি সম্পন্ন আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা দুবাই রেসিডেন্স ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

দুবাই আমরা বিভিন্ন ধরনের ভিসা নিয়ে যেয়ে থাকি তবে অনেকেই জানেনা যে দুবাই রেসিডেন্স ভিসা কি। যখন দুবাইয়ের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকে তখন কিন্তু অনেকেই অনেক ধরনের ভিসা তৈরি করে নিয়ে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করে তার মধ্যে রয়েছে দুবাই ইনভেস্টর ভিসা, দুবাই টুরিস্ট ভিসা, দুবাই পাটনা, দুবাই রেসিডেন্স ভিসা সহ আরো অনেক ধরনের ভিসা রয়েছে।

তাই আজকে মূলত আমরা এই কনটেন্ট এর মধ্যে মূলত দুবাই রেসিডেন্স ভিসা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে দিব এবং আপনারা এই ভিসা তে সেখানে গিয়ে কি কি সুযোগ সুবিধা নিতে পারবেন এবং কতদিন পর্যন্ত থাকতে পারবেন ওভারঅল সম্পূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েই আমরা এখানে তুলে ধরবো তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক দুবাই রেসিডেন্স ভিসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য।

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা

দুবাইয়ের বিজনেস পরিচালনা করার জন্য যে ভিসা তৈরি করা হয় তাকে মূলত দুবাই রেসিডেন্স ভিসা বলা হয়। দুবাই রেসিডেন্স ভিসার মাধ্যমে তিন বছর পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন ধরনের বিজনেস করা যাবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে বিজনেস করার জন্য দুবাই রেসিডেন্স ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে তারপরেই আবার পুনরায় দুবাই রেসিডেন্স ভিসার এর মাধ্যমে সে বসবাস করতে পারবে।

তবে রেসিডেন্স ভিসা নেওয়ার পরে কিছু নিয়ম আছে সেগুলো আপনাকে ফলো করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় যে সমস্ত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে দেখা লাগে সেই বিষয় নিয়ে আমরা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি আপনি যদি দুবাই রেসিডেন্স ভিসা নিয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এই বিষয়গুলো জানতে হবে। তা না হলে আপনার ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ  দুবাই কোন কাজের বেতন বেশি | দুবাই কোন কাজের কত বেতন

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা খরচ

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা খরচ ১২ লক্ষ টাকা থেকে ১৮ লক্ষ টাকা। এটা মূলত দুবাই বিজনেস করার জন্য যে লাইসেন্স তৈরি করতে হয় সেই লাইসেন্সের খরচ। তবে এক্ষেত্রে আপনাদের জেনে রাখা উচিত যে দুবাই রেসিডেন্স ভিসা করার জন্য আপনারা কয়েকজন মিলে ও করতে পারবেন এক্ষেত্রে যদি আপনার কাছে ১২ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা না থাকে তাহলে আপনি পার্টনার এর মাধ্যমেও দুবাই রেসিডেন্স কার্ড নিতে পারবেন।

তবে দুবাই রেসিডেন্স ভিসা নেওয়ার জন্য আপনারা যে লাইসেন্স তৈরি করবেন ওই লাইসেন্স এর মাধ্যমে আবার আপনার ওই বিজনেস পরিচালনা করার জন্য কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিসা তৈরি করতে পারবেন এবং আপনার পার্টনার এর জন্যেও রেসিডেন্স ভিসা এবং আপনার ফ্যামিলির সদস্যদের জন্য ভিসা তৈরি করে সেখানে নিয়ে যেতে পারবেন তবে এই ভিসার মেয়াদ 3 বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আরো পড়ুনঃ  অস্ট্রেলিয়ান ব্লগারকে উত্ত্যক্ত করা কে সেই চাচা জেনে নিন

তবে আপনাদের জেনে রাখা উচিত যে দুবাই রেসিডেন্স ভিসার জন্য অবশ্যই প্রত্যেক বছর যে লাইসেন্স তৈরি করেছেন সেই লাইসেন্সের জন্য আপনাকে খরচ বহন করতে হবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ খরচ ধরা হয় সে খরচ বহন না করেন তাহলে আপনার ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা ফর বাংলাদেশী

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা মূলত বাংলাদেশীদের জন্য বিজনেস করার একটি সুযোগ এক্ষেত্রে আপনি সেখানে বিভিন্ন ধরনের গ্রোসারি আইটেম এর দোকান দিতে পারেন অথবা সেখানে বিজনেস করার জন্য কোন কনস্ট্রাকশন কম্পানি কিংবা বিভিন্ন ধরনের বিজনেস পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশীদের জন্য। দুবাই রেসিডেন্স বিছা তৈরি করার জন্য সরাসরি বাংলাদেশ থেকে দুবাই টুরিস্ট ভিসা নিয়েও তৈরি করতে পারবেন অথবা বাংলাদেশ থেকেও আপনারা দালালের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিছা তৈরি করতে পারবেন।

তবে আপনাদের জেনে রাখা উচিত যে দালালের মাধ্যমে যদি আপনারা ভিসা তৈরি করেন তাহলে কিন্তু ভুল করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ দুবাই রেসিডেন্স ভিসা করার জন্য আপনার কাছে অনেক টাকা নিতে পারে এইভাবে অনেকের কাছ থেকেই বড় অঙ্কের টাকা তারা নিয়ে নেই কিন্তু একটা লাইসেন্স এর মাধ্যমে অনেকগুলো ভিসা তৈরি করে এক্ষেত্রে আপনার লস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। তাই চেষ্টা করবেন নিজে গিয়ে সরাসরি দুবাই রেসিডেন্স ভিসা তৈরি করতে। এক্ষেত্রে আপনার লস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা
দুবাই শহর

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা কিভাবে পাবেন

দুবাই রেসিডেন্স বিছা তৈরি করার জন্য আপনার পরিচিত কোন ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা বাংলাদেশের যে সমস্ত সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি আছে তাদের সহায়তা নিতে পারেন। অথবা আপনি যদি দুবাইয়ের টুরিস্ট ভিসা তৈরি করে সেখানে যাওয়ার পরে দুবাই রেসিডেন্সি ভিসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জেনে তৈরি করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ  দুবাই ড্রাইভিং ভিসা | দুবাই ড্রাইভিং ভিসা বেতন কত

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা তৈরি করার জন্য দুবাই দূতাবাস এর মাধ্যমেও করতে পারবেন অথবা চাইলে দুবাই যে সমস্ত রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে সেই সমস্ত এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে করতে পারবেন এক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজ পাতি এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট সহ আরও প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন সেগুলো নিচে আমরা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি।

দুবাই রেসিডেন্স ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • ৬ মাসের ভ্যালিড পাসপোর্ট
  • ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • দুবাইয়ের কর্মসংস্থান থাকলে তার প্রমান
  • দুবাই কোন কাজে নিয়োজিত থাকলে তার প্রমান
  • এনআইডি কার্ড এর ফটোকপি
  • বিজনেস আইডিয়া এর প্রমাণ
আরো পড়ুনঃ  দুবাই গোল্ডেন ভিসা কি এবং কিভাবে দুবাই গোল্ডেন ভিসা পাবেন

মূলত আপনাকে ভেরিফিকেশন করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র চাওয়া হয় তবে এক্ষেত্রে আপনি আপনার এজেন্সির মাধ্যমে কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন এবং কতটা বাধ্যতামূলক সেটা অবশ্যই জেনে নেবেন তাহলে এক্ষেত্রে আপনার তেমন কোনো ঝামেলার মধ্যে পড়তে হবে না।

দুবাই রেসিডেন্স ভিসাতে সুযোগ সুবিধা

দুবাই রেসিডেন্স ভিসার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে যেমন আপনি সেখানে ট্যাক্সি চালাতে পারবেন। এবং বিভিন্ন ধরনের বিজনেস করতে পারবেন এক্ষেত্রে দোকান-শপিংমল কনস্ট্রাকশন কম্পানি সহ আরো অনেক কোম্পানি তৈরি করতে পারবেন। এবং ফ্যামিলি সদস্যদের কে নিয়ে যেতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আরও শ্রমিক ভিসা তৈরি করে নিয়ে যেতে পারবেন।

এবং সেখান তিন বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ পাবেন পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন তবে অন্যান্য ভিসার তুলনায় রেসিডেন্সি সাথে সুযোগ সুবিধা বেশি পাওয়া যায় তা সবারই জানা।

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা সতর্কতাঃ

দুবাই রেসিডেন্স ভিসা নিয়ে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। তাই আপনাদের জেনে রাখা উচিত যে রেসিডেন্ট ভিসা কয়েকজন মিলে ও তৈরি করা যায় এবং যারা দালাল রয়েছে তারা কিনা প্রত্যেকের কাছেই বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে একটি লাইসেন্স এর মাধ্যমে অনেকগুলো ভিসা তৈরি করে বাংলাদেশে থেকে লোক নিয়ে যাচ্ছে এবং সে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ  ওমান টুরিস্ট ভিসা ২০২৩-ওমান টুরিস্ট ভিসা কত টাকা

এবং পরবর্তীতে তাদের যখন আবার লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভিসা রিনিউ করতে গেলে ভিসা রিনিউ করা সম্ভব হয়না যখন সে পুনরায় আবার লাইসেন্সের টাকা পরিশোধ করে তখনই কিন্তু সে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারবে তাছাড়া কিন্তু বাড়াতে পারবে না এক্ষেত্রে যারা দালালের মাধ্যমে যায় তারা এসমস্ত সমস্যায় পড়ে থাকে।

তাই অবশ্যই চেষ্টা করবেন আপনি যেই কোম্পানির মাধ্যমে দুবাই রেসিডেন্স ভিসা নিচ্ছেন সেই কোম্পানি বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও এই কোম্পানির লাইসেন্স থাকবে কিনা এ বিষয়টি ভালোমতো জেনে নিবেন তার পরেই তাদের হাতে টাকা পয়সা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিবেন তার আগে কখনই নিবেন না।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *