ফিজি কাজের ভিসা ২০২৩-ফিজি কাজের বেতন

ফিজি কাজের ভিসা
ফিজি কাজের ভিসা

ফিজিতে কাজ করার জন্য অনেকেই যেতে চান। যে কারণে অনেকেই সম্পর্কে জানতে চান। আজকে আমরা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করব ফিজি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। এখান থেকে আপনারা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে যাবেন যা আপনাদের উপকারে আসবে। আজকের এই কন্টেন্ট থেকে আপনারা জানতে পারবেন।

ফিজি কাজের ভিসা ২০২৩, ফিজি কাজের বেতন, ফিজি কাজের ভিসা আবেদন, ফিজি কাজের ভিসা প্রসেসিং, ফিজি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফিজি কাজের ভিসার দাম কত, ফিজিতে কোন কাজের চাহিদা বেশি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আজকে আপনারা আমাদের এই কনটেন্ট থেকে জানতে পারবেন।

ফিজি কাজের ভিসা ২০২৩

২০২৩ সালে ফিজিতে ব্যাপক শ্রমিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কথা রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে ফিজি কাজের ভিসা নিয়ে অনেকেই বাংলাদেশ থেকে এবং অন্যান্য দেশ থেকে ফিজিতে গিয়েছে। বর্তমানে এখন পর্যন্ত ফিজিতে প্রায়ই প্রতিনিয়তই সরকারি এবং বেসরকারি এজেন্সি গুলোর মাধ্যমে কাজের ভিসা নিয়ে ফিজিতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনি অনেক ধরনের কাজের ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে এবং কৃষি ভিসা সহ ফ্যাক্টরি ভিসা এবং অন্যান্য কাজের ভিসা নিয়ে ফিজিতে যেতে পারবেন।

তাই এই সালের যারা ফিজিতে কাজের ভিসা নিয়ে যেতে চাচ্ছেন তাদের এবার একটি সুবর্ণ সুযোগ আসছে এক্ষেত্রে আপনারা সরকারি এজেন্সি গুলো অথবা সরকার নিবন্ধিত এজেন্সি গুলোর মাধ্যমে আপনারা যোগাযোগ করে ফিজি কাজের ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যগুলো।

আরো পড়ুনঃ  সৌদি আরবের গার্মেন্টস ভিসা আবেদন, খরচ, বেতন

ফিজি কাজের বেতন

ফিজিতে একজন শ্রমিক কাজ করে প্রতি মাসে আয় করতে পারেন প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বিভিন্ন ক্যাটাগরি এবং বিভিন্ন কাজের উপর নির্ভর করে বেতন কমবেশি হয়ে থাকে। প্রতিটি কাজের বেতন এক নয় কিছু কিছু কাজের বেতন কম এবং কিছু কিছু কাজের বেতন বেশি। কোন কাজের বেতন কত তা আমরা নিচে টেবিলের মাধ্যমে উল্লেখ করব। পুরো কনটেন্ট জুড়ে আমাদের সঙ্গে থাকলে ফিজি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবেন।

ফিজি কাজের ভিসা আবেদন

ফিজি কাজের ভিসা আবেদন আপনি অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে নিজে নিজে সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে আপনি যদি অনলাইনে বা অনলাইন সম্পর্কে দক্ষ না হন তবে আপনি কোন এজেন্সির সাহায্য নিতে পারেন। এজেন্সির মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বাংলাদেশ থেকে ফিরে যেতে অবস্থান করতে পারবেন। বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ প্রতিবছর ফিজিতে গিয়ে বিভিন্ন রকম কাজ করে থাকছে। আপনি চাইলেও বাংলাদেশ থেকে ফিজিতে কাজ করার জন্য যেতে পারবেন।

ফিজি কাজের ভিসা প্রসেসিং

ফিজি কাজের ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেগুলো ছাড়া আপনি ফিজি কাজের ভিসা প্রসেসিং করতে পারবেন না। তাই কাজের ভিসা প্রসেস করার পূর্বেই আপনি আপনার সকল ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করে রাখবেন। তাহলে খুব দ্রুত সময়ে আপনি ভিসা প্রসেস করতে পারবেন। ভিসা প্রসেস করতে হলে আপনার বেশ কিছু ডকুমেন্টস প্রয়োজন হবে তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

আরো পড়ুনঃ  প্রবাসী কর্মী বীমা সংক্রান্ত নোটিশ ২০২৩
  • বৈধ পাসপোর্ট
  • সদ্য তোলা ছবি
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • ভিসা ফরম
  • আমন্ত্রণপত্র

ফিজিতে ১০ টি কাজের বেতন

ফিজিতে একজন শ্রমিক কাজ করে প্রতি মাসে অ্যাভারেজ ভাবে আয় করতে পারেন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মের উপর এবং বিভিন্ন রকম কোম্পানি বা ভিন্ন কাজের উপর নির্ভর করে বেতন কমবেশি হয়ে থাকে। তবে আপনি যদি ফিজিতে গিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনি মাস শেষে প্রায়ই ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। নিচের টেবিলে আমরা উল্লেখ করলাম ফিজির দশটি কাজের বেতন সম্পর্কে।

ফিজিতে কাজবেতন
লেবার৩০ থেকে ৪৫ হাজার
ক্লিনার৩০ থেকে ৪৫ হাজার
হোটেল৩০ থেকে ৫০ হাজার
কনস্ট্রাকশন৩০ থেকে ৪৫ হাজার
ড্রাইভিং৩৫ থেকে ৫৫ হাজার
মেকানিক্যাল৪০ থেকে ৬৫ হাজার
ইলেকট্রনিক্স৩৫ থেকে ৫৫ হাজার
গার্মেন্টস৩০ থেকে ৪৫ হাজার
কৃষি৩০ থেকে ৪৫ হাজার

ফিজি কাজের ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে বা অন্যান্য দেশ থেকে ফিজি যেতে চান তাহলে আপনার বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে। যে সকল ডকুমেন্টগুলো ছাড়া আপনি ফিজিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। ফিজি যেতে হলে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয় তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

আরো পড়ুনঃ  সিঙ্গাপুর কোন কাজের চাহিদা বেশি ( ২০ টি সহজ কাজ )
  • প্রথমত আপনার একটি বৈধ পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হবে।
  • অতঃপর পাসপোর্ট এর মেয়াদ ছয় মাসের বেশি থাকতে হবে।
  • পাসপোর্টে থাকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে কমপক্ষে দুইটা।
  • আবেদন ফরম থাকতে হবে।
  • করোনা টেস্ট এর সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর প্রয়োজন হবে।
  • মেডিকেল রিপোর্ট।
  • সদ্য তোলা ছবির প্রয়োজন হবে।
  • এনআইডি কার্ড এর প্রয়োজন হবে।

ফিজি কাজের ভিসার দাম কত

আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে ফিজিতে যেতে চান তাহলে আপনার মোট খরচ হবে প্রায় ছয় লক্ষ টাকার মত। তবে এজেন্সি বা দালাল ভেদে খরচ কম বেশি হতে পারে। আপনি যদি নিজে নিজের সম্পন্ন প্রসেস করে থাকেন তাহলে আপনার খরচ হবে প্রায় দুই থেকে চার লক্ষ টাকা। তবে আপনি যে এজেন্সির মাধ্যমে যান না কেন আপনার খরচ প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকার মতই হবে।

ফিজি কাজের ভিসা
                                                    ফিজি কাজের ভিসা

ফিজিতে কোন কাজের চাহিদা বেশি

ফিজিতে অনেক রকমের কাজ রয়েছে। যে সকল কাজগুলো করার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ ফিজিতে যেয়ে থাকেন। অনেকগুলো কাজের মধ্যে থেকে আজকে আমরা আপনাদের সঙ্গে ফিজিতে যে সকল কাজগুলোর চাহিদা বেশি সেই সকল কাজগুলো নিচে টেবিলে উল্লেখ করলাম।

ফিজিতে কোন কাজের চাহিদা বেশি
ইলেকট্রনিক্স
মেকানিক্যাল
কনস্ট্রাকশন
টাইলস
ড্রাইভিং
ক্লিনার
হোটেল
লেবার
কারপেন্টার
মেসন
ব্রিক লেয়ার
পেইন্টার
ওয়েল্ডার
গার্মেন্টস
কৃষি
আরো পড়ুনঃ  রোমানিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা চেক-রোমানিয়া সাবমিশন স্লিপ চেক

সরকারিভাবে ফিজিতে কাজের ভিসা

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ থেকে অনেক দেশে সরকারি ভাবে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তেমনি বাংলাদেশ থেকে ফিজিতে সরকারিভাবে কাজ করার জন্য আপনি যেতে পারবেন। বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ ফিজিতে সরকারিভাবে এবং বেসরকারিভাবে কাজ করার জন্য জেগে থাকেন। এবারও বাংলাদেশ থেকে ফিজি সরকার বাংলাদেশী শ্রমিক সরকারিভাবে নিয়ে থাকবেন। আপনি যদি যোগ্য হয়ে থাকেন তাহলে আপনি খুব সহজেই সরকারি ভাবে যেতে পারবেন।

ফিজি কাজের ভিসার মেয়াদ কত দিন

ফিজি কাজের ভিসার মেয়াদ হয়ে থাকে প্রায় এক থেকে তিন বছর। ভিসা শেষ হওয়ার পরে আপনি আবার রিনিউ করে পরবর্তী সময়ে ফিজিতে কাজ করতে পারবেন। রিনিউ করার সময় আপনার খরচ খুবই স্বল্প পরিমাণ হবে। আপনি যত বছর ভিসার মেয়াদ নিয়ে যাবেন আপনি তত বছরই সেখানে কাজ করতে পারবেন। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তীতে আপনাকে অবশ্যই রিনিউ করতে হবে।

ফিজি কাজের ভিসা পাওয়ার শর্তাবলী

আপনি যদি এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা নিয়ে ফিজিতে যেতে চান তাহলে আপনার বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে। যে সকল ডকুমেন্টগুলো ছাড়া আপনি ফিজিতে কোন কাজের জন্যই বা কোন কিছু করার জন্য যেতে পারবেন না। যে সকল ডকুমেন্টসগুলো প্রয়োজন তা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি। ফিজি এর ভিসা পেতে হলে আপনার বয়স অবশ্যই ১৮ বছর এর বেশি হতে হবে। আপনি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত কাজ করার জন্য ফিজিতে যেতে পারবেন না।

ফিজি কাজের ভিসা দিয়ে সতর্কতা

ফিজিতে কাজের ভিসা নিয়ে যাওয়ার পূর্বে আমাদের সকলেরই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। সতর্কতা অবলম্বন করলে আমরা কোনরকম সমস্যার সম্মুখীন হবো না। ফিজি যাওয়ার পূর্বে আমরা যে এজেন্সির মাধ্যমে যাব সে এজেন্সি সম্পর্কে সঠিকভাবে খোঁজ নিয়ে তারপরে যাব। অনলাইনের মাধ্যমে আমাদের ভিসা চেক করে নেব। এজেন্সি সম্পর্কে সঠিক তথ্য নেওয়া আমাদের সকলের জন্য জরুরী।

আরো পড়ুনঃ  জাপানি স্টুডেন্ট ভিসা খরচ | জাপান স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৩

বাংলাদেশে অনেক এজেন্সি রয়েছে যেগুলো অবৈধ এই এজেন্সি গুলোর মাধ্যমে আপনি যদি অন্য কোন দেশে যান তাহলে আপনি বড় রকম সমস্যার সম্মুখীন হবেন। অথবা আপনাদের এই কারণে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বিভিন্ন দালাল আপনাকে ফিজি নিয়ে যাবে বলে লোভ দেখাবে।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে আপনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আপনাকে আর ফিজিতে নিয়ে যাবে না। সুতরাং এখানে আপনি বড় রকমের লচ করবেন। সুতরাং যাওয়ার পূর্বেই আপনারা এজেন্সি এবং আপনি যে মাধ্যমে যান না কেন সেই সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ খবর নিয়ে তারপরে সবকিছু করবেন।

ফিজিতে স্থায়ী হওয়ার উপায়

আপনি যদি ফিজিতে জব করে থাকেন তাহলে আপনি যদি একটু সচেতন হয়ে থাকেন তাহলে ফিজির নাগরিকত্ব আপনি পেতে পারেন। ফিজির নাগরিকত্ব পেলে আপনি সেখানে ওই দেশের নাগরিকদের মতই সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকবেন। বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়াটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আপনি যদি সেখানে জব করেন এবং আপনি যদি সচেতন থাকেন তাহলে আপনি নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন।

কাতারে হোটেল চাকরি | কাতার রেস্টুরেন্ট ভিসা

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *