বিকাশ প্রতারণা মামলা করার নিয়ম

বিকাশ প্রতারণা মামলা করার নিয়ম
বিকাশ প্রতারণা মামলা করার নিয়ম

বর্তমান সময়ে একই স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য আমরা বিকাশ ব্যবহার করে থাকি। আর এই বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমেই প্রতিদিন ঘটছে নানা ধরনের প্রচারণামূলক কার্যকলাপ। বিকাশের মাধ্যমে চলছে নানা ধরনের সুকৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নানা রকম মাধ্যম।

বিশেষ করে বাংলাদেশের মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে এই প্রতারণা ঘটছে প্রতিনিয়ত তাই সারাদেশে বিকাশের এরকম হাজারো চক্র আর প্রতারক সিন্ডিকেট রয়েছে বর্তমানে। তাই আজকে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আপনাদেরকে বিস্তারিতভাবে জানাবো।

বিকাশে যেভাবে  প্রতারণা করে

মূলত ক্ষুদে বার্তা এসএমএসের মাধ্যমেই বিকাশে প্রতারণামূলক এই কাজটি করা হয়ে থাকে। ভুল করে আপনার বিকাশে টাকা চলে গেছে বলে এরকম নানা ধরনের আকুতি-মিনতি করতে পারে আপনার কাছে অথবা ফোন দিয়ে নানা রকমের বিরক্তি মুলক কথাবার্তা বলতে পারে বিকাশে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্র।

বর্তমান সময়ে ডিবি পুলিশ অথবা বাংলাদেশ প্রশাসন বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তা ছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে তারা বিকাশের প্রতারণামূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে যেমন নিচে বিস্তারিতভাবে কয়েকটি বর্ণনা দেওয়া হল।

বিকাশের পিন বা ওটিপি সংগ্রহ করার জন্য আপনার কাছে নানা ধরনের ফায়দা করতে পারে। যেমন বলতে পারে আপনার নাম্বার একটি ভুল করে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলেছি এজন্য আপনার কাছে কোড যাচ্ছে আমাদের কাছে দিলে আমার খুব হেল্প হতো।

আরো পড়ুনঃ  ২৫০০০-৩০০০০ টাকার মধ্যে দুর্দান্ত কিছু ওয়ালটন ফ্রিজ (২০২২)

এইভাবে আপনার বিকাশ এর ওটিপি কোড নাম্বারটি নিয়ে নিতে পারে অথবা আপনাকে মোবাইল রিচার্জের মাধ্যমে ওটিপি কোড নিয়ে নিতে পারে। বলতে পারে আপনার মোবাইলে আমি এত টাকা রিচার্জ দিচ্ছি আমাদের একটা অফার আছে আপনি যদি আমাদের এই কোডটা শেয়ার করেন তাহলে কিন্তু আমরা আপনাকে এত টাকা ব্যালেন্স করে দিব। এইভাবে আপনার বিকাশ একাউন্টটি তারা নিয়ে নিবে।

বিকাশ প্রতারক এর ভাষ্য

বিকাশ প্রতারক দের একজন নির্ধারিত লিডার থাকে। মূলত এ লেটার অনুযায়ী সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিকাশ প্রতারণা মূলক কাজে ২০-২৫ জন থাকে। বিকাশ প্রতারণামূলক কাজে জড়িত ব্যক্তিরা দোকানের আশপাশে ঘুরাঘুরি করে।

কোন ব্যক্তি যদি বিকাশ করতে বা বিকাশের লেনদেন করার জন্য দোকানে আসে তাহলে কৌশলে যে নম্বরে বিকাশ করা হচ্ছে সে নম্বরটি জেনে লিডারকে ফোনে ঐ নম্বরটি জানিয়ে দিয়ে থাকে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই লিডার বা অভিব্যক্তি আপনাকে ফোন করে জানাতে পারে যে ভুল করে আপনার কাছে কিছু টাকা চলে গেছে এরকম অনেক আকুতি-মিনতি করতে পারে।

দয়া করে আপনার ব্যালেন্স চেক করুন এবং বিষয়টি নিশ্চিত করুন এই বিষয়টি আপনাদেরকে জানাতে পারে। তার কিছুক্ষণ পরেই আপনাকে ওই ব্যক্তি নিশ্চিত হওয়ার জন্য বলতে পারে প্লিজ আপনি কি ব্যালেন্স চেক করেছেন? তখন তিনি বলতে পারেন আমার ফোনে কোন ধরনের টাকা আসেনি শুধু মাত্র 5000 টাকায় এসেছে এরকম ভাবে আপনাকে প্রতারণায় ফেলতে পারে।

বিকাশ প্রতারণামূলক কাজে যারা জড়িত তাদের শুধু এতোটুকুই জানার প্রয়োজন থাকে। আপনার নির্ধারিত টাকা জানার পরে তারা একটি ভুল নাম্বার থেকে বাবার নাম্বার থেকে ফরওয়ার্ড কিত 8000 টাকার একটি মেসেজ সেন্ড করে ওই নাম্বারে। সেটা কি আবার পুনরায় ফোন দিয়ে ভাই দয়া করে একটু ব্যালেন্সটা চেক করবেন এই কথাটি বলে।

আরো পড়ুনঃ  অধিক সময় সহবাসের দোয়া

তখন তারা সরাসরি মেসেজটা দেখার পরেই তারা নিশ্চিত করে যে হ্যাঁ 3000 টাকা বেশি এসেছে এখানে। তখন তারা আকুতি মিনতি করে বলতে থাকে যে ভাই আমি একটি গরিব দোকানদার আমাকে যদি টাকাটা ফিরাই দিতেন। দয়া করে টাকাটা ফেরৎ দিয়ে দিন। তা না হলে আপনার জন্য আমি আইনত ব্যবস্থা নিতে পারি। তখন ঐ ব্যক্তি কোন ধরনের ব্যালেন্স চেক না করে সরাসরি তার তিন হাজার টাকা পুনরায় প্রতারণামূলক কাজে জড়িত তাদেরকে দিয়ে দেয়।

বিকাশ প্রতারণা মামলা করার নিয়ম

বিকাশে যেই নাম্বারে আপনি টাকা পাঠিয়েছেন সেই নাম্বারটি এবং কত টাকা পাঠিয়েছেন তার একটি মেসেজ নিয়ে সরাসরি থানায় গিয়ে আইসিটি আইনে মামলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য গুলো সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কোন নাম্বার যদি ব্যবহৃত হয়ে থাকে সেগুলো নিয়ে যাবেন। 

এক্ষেত্রে কিন্তু আপনাকে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে আপনি কত টাকা পাঠিয়েছেন এবং কতটার সময় টাকা পাঠিয়েছেন। সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিকাশ প্রতারণায় জড়িত কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠান থাকলে সেই বিষয়টি সেখানে তুলে ধরতে হবে।

বিকাশে প্রতারিত হলে করণীয়

বিকাশের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি প্রতারিত হলে প্রতারণাকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করতে হবে। তাছাড়াও সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের চালু হওয়া Hello CT অ্যাপস এর মাধ্যমে সাইবার ক্রাইম অথবা আন্তঃদেশীয় অপরাধ অপশনে ঢুকে আপনার অভিযোগটি সেখানে লিখুন।

বিকাশে টাকা পাঠানোর সময় যেসব বিষয় লক্ষ্য করবেন

১/ বিশ্বস্ত কোন এজেন্টের মাধ্যমে বিকাশে টাকা পাঠাবেন।
২ / টাকা পাঠানোর সময় আশেপাশে কেউ আপনাকে লক্ষ্য করছে কিনা এক্ষেত্রে সাবধান থাকবেন।
৩/ আপনার প্রেরিত টাকার পরিমাণ যাকে টাকা পাঠাচ্ছেন সেই অংকটা জানিয়ে দিন।
৪ / দ্বিতীয় কোন ধরনের মেসেজ আসলে সেটি নিশ্চিত হবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যালেন্স চেক করবেন।
৫/ বিকাশে টাকা আদান প্রদান করতে আসলে তার জাতীয় পত্রের একটি কপি সংগ্রহ করে রাখুন।
৬/ প্রতিটি লেনদেন করার পরে অবশ্যই আপনার ব্যালেন্স ঠিকঠাক আছে কিনা সে বিষয়টি চেক করুন।
৭/ বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার বা এই সমস্ত মেসেজ থেকে বিরত থাকুন।
৮/ মনে রাখবেন বিকাশ থেকে যদি কোনো ধরনের মেসেজ আসে তাহলে Bikas লেখা থাকবে

আরো পড়ুনঃ  বিকাশ একাউন্ট লক হলে করনীয়

সাবধানতা:
বিকাশে যদি কোনো ধরনের ভুল করে থাকেন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের হেল্প সেন্টারে যোগাযোগ করুন। কোন ধরনের মেসেজে আসলে কাউকে কখনো শেয়ার করবেন না তা না হলে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যেতে পারে। তারা আপনাকে নানা ধরনের অজুহাত দেখাতে পারে তবে অবশ্যই কখনোই তাদের কথায় কান দিবেন না।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *